মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

ভাষা ও সংস্কৃতি

সাংষ্কৃতিক অঙ্গনের দিক থেকে এই উপজেলা অনেক এগিয়ে। এই্ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেছেন বাউল সাধক, লোকগীতিকার উকিল মুন্সী। তাঁর লেখা গান মুখে মুখে রটে বেড়াচ্ছে দেশ জুড়ে। সাংষ্কৃতিক বিভিন্ন অঙ্গনের মধ্যে ঘাটুগান, সারিগান, জারিগান, উরিগান, যাত্রা ইত্যাদি এখানে প্রচলিত। কথিত আছে মৈয়মনসিংহ গীতিকার মহুয়া গীতিনাট্যের নায়ক নদের চাঁদের বাড়ী খালিয়াজুরী ছিল। নদের চাঁদের বাড়ী- ভিটাটি ঠাকুর বাড়ীরভিটা নামে খ্যাত। খালিয়াজুরী উপজেলায় এক সময় ঘাটু গান প্রচলিত ছিল। ঘাটু গানের দর্শক থাকলেও ঘাটুগানের দল করার এখন লোক নেই।  খালিয়াজুরী অঞ্চলের অন্যতম লোক উৎসব বড়ান্তর গ্রামে ধনুনদীতে অষ্টমী স্নানকে কেন্দ্র করে। সেখানে লোকমেলা বসে। এ মেলাকে স্থানীয় মানুষ তাদের একটি বাৎসরিক উৎসব হিসেবে মনে করে। শুষ্ক মৌসুমে খালিয়াজুরীর খলাপাড়া গ্রামে তারিখ নির্ধারণ করে কুস্তি প্রতিযোগিতা হয়। স্থানীয় ভাবে কুস্তিকে খেইড় বলে। সে খেইড় দেখতে ও খেইড় লড়তে দূরদুরান্ত থেকে দর্শক ও খেইড়ের মালেরা (যারা কুস্তিলড়ে) আসে।

খালিয়াজুরীর গ্রামের মানুষ এখনো মুখে মুখে ছড়া আবৃত্তি করে। যেমন-
            হাইয়ের ভাই দেওর,
            দৌড়াইয়া নেয় তিন আওর।
            তেডাইল্যার ভরে পরে
            বাদে তে ছাড়ে।
লোকক্রীড়া নেত্রকোণার জেলার অন্য উপজেলা থেকে খালিয়াজুরী উপজেলাতেই বেশী দেখা যায়। বর্ষা মৌসুমে নৌকা ছাড়া মানুষ যখন ঘর থেকে বের হতে পারে না তাই ঘরে বসেই সময় কাটায়। সে সময়ে মেয়েরা থাপড়ি, কুত- কুত, ছাপ, লুডু , তালুক খাওয়া, ষোলকড়ি, ইত্যাদি খেলায় মেথে ওঠে। ছেলেরা পানিতে নলই (পানিতে ডুব দিয়ে একে অন্যকে ধরা), ঘরে বসে পট খেলা, ছাপখেলা খেলে। শুষ্ক মৌসুমে ছেলেরা দারিয়াবান্ধা,  হাডুডু, গোল্লাছুট খেলে। বিয়ে- শাদীতে খালিয়াজুরী অঞ্চলে বিয়ের গীত এখনো প্রচলিত। বিয়ে শাদীতে মাইক দিয়ে গীত পরিবেশিত না হলে যেন বিয়েই হচ্ছেনা। গীত পরিবেশনের জন্য এক পাড়ার বিয়েতে অন্য পাড়ার মহিলাগীতালু নিমন্ত্রন করে। অবস্তাসম্পর্ন পরিবারের বিয়ে-শাদীতে গীতালুদের উপহার হিসেবে শাড়ী অথবা টাকা দেয়া হয়।